![]() |
| **ছবি: কুতুবদিয়া ২৪-এর প্রতিবেদকের ক্যামেরায় মগনামা ঘাটের বর্তমান চিত্র।** |
কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে ঝুঁকি নিয়েই চলছে যাত্রী ও পণ্য পারাপার। দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও সংস্কারের অভাবে ঘাটটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও পিলারে ফাটল, কোথাও রড বেরিয়ে আছে, আবার কোথাও ভেঙে গেছে রেলিং ও পাটাতনের অংশ।
সম্প্রতি তোলা ছবিতে মগনামা ঘাটের এমনই নাজুক চিত্র দেখা গেছে। জেটির নিচের বেশ কয়েকটি পিলারে ক্ষয় ও ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। কোথাও পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর করে চলছে যাত্রীদের ওঠানামা ও পণ্য পরিবহন। ঘাটে নৌযান ভেড়ানোর স্থানেও রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি।
মগনামা জেটিঘাট কুতুবদিয়া দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগস্থল। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে কুতুবদিয়া থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন মানুষ। একই সঙ্গে দ্বীপের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য ও মাছসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনেও ঘাটটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ জেটিতে বাড়ছে উদ্বেগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জেটিটির বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় পানির চাপ ও ঢেউয়ের কারণে ঘাটের নিচের কাঠামো আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মগনামা জেটিঘাটের পিলার, রেলিং ও পাটাতনের ক্ষয়ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। কয়েকটি সিঁড়ি মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ব্যবহার করে যাত্রী ও মালামাল ওঠানামা করানোর কথাও জানা যায়।
ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ঘাট পারাপারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সি-ট্রাক চালু হলেও ঘাটের ঝুঁকি কমেনি
কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে সি-ট্রাক চালুর পর দ্বীপবাসীর নিরাপদ নৌযাতায়াতের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কুতুবদিয়া প্রান্তের বড়ঘোপ ঘাটের পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সি-ট্রাক চলাচলেও বিভিন্ন সময়ে বিঘ্ন ঘটেছে।
অন্যদিকে, মগনামা জেটির বর্তমান অবস্থাও যাত্রীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও...
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মগনামা জেটিঘাটের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জেটিঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পুরোনো মগনামা জেটিঘাট সংস্কারের পাশাপাশি নতুন একটি আধুনিক জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে পুরোনো জেটিঘাট সংস্কারে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা এবং নতুন জেটিঘাট নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
কুতুবদিয়াবাসীর প্রশ্ন—নিরাপদ ঘাট কবে?
মগনামা ঘাট শুধু একটি নৌঘাট নয়; এটি কুতুবদিয়ার মানুষের জীবন-জীবিকা, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ।
তাই স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরাজীর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুতুবদিয়া ২৪-এর প্রশ্ন—প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটটি কি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর সংস্কার হবে, নাকি দুর্ঘটনার আগেই নেওয়া হবে কার্যকর ব্যবস্থা?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন